রংপুর নগরীর সহ বিভিন্ন উপজেলার মানুষ পানিবন্দি। দিশেহারা নদী অঞ্চলের মানুষজন

প্রকাশিত: ০৪:৩১ পি এম , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেহেদি হাসান,পীরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি: গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর বৃষ্টিপাতের বেহালদশা সৃষ্টি হয়েছে রংপুর নগরীসহ বিভিন্ন জেলায়। রংপুর নগরীর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।জানা গেছে রংপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ৪৩৩ মিঃমিঃ বৃষ্টিপাত রেকর্ড। 

যা সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।যা গত একুশ বছরেও হয়নি। এমন বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত আরও দু’একদিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন  রংপুর আবহাওয়া অফিস।১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।যা বর্তমানে এই বৃষ্টির পানিতে রংপুর নগরীর বেশ কিছু জায়গায় অধিকাংশ উপজেলায় বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। যা রাস্তার চরম দূর্ভোগে সর্বসাধারণ,রংপুর নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে ড্রেন নিষ্কাশন ব্যবস্তা না থাকায় পানির জলাবদ্ধতার হাঁটু,কমর পর্যন্ত পানি। রাস্তার এমন ভরাট পানিতেই এর মধ্যেই যান চলাচল করতেছে।কিন্তু ভোগান্তির কম নেই সর্বসাধারণ সস্তির অস্থিরতা মিলছেনা যান চলাচলের।

পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে সবেচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। বেশির ভাগ রাস্তা ৩-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর শাপলা চত্বর, হাজীপাড়া, চামড়াপট্টি, করণজাই রেড, সেনপাড়া, নিউ সেনপাড়া, আদর্শপাড়া, বাবুখাঁ, কামার পাড়া, জুম্মাপাড়া, কেরানীপাড়া, আলমনগর, হনুমান তলা, মুন্সিপাড়া, মুলাটোল আমতলা, গণেশপুর, বাবুপাড়া, লালবাগ কেডিসি রোড, বাস টার্মিনাল, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মর্ডান মোড়, মেডিকেল পাকার মাথা, জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, খটখটিয়াসহ অন্তত শতাধিক পাড়া-মহল্লার অলিগলিসহ প্রধান সড়কে পানি উঠেছে।নিচু এলাকার বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ছন্নছাড়া হয়েছে নগরবাসীর জীবন। নিজ বাড়িতে রান্না করতে না পারায় দুর্ভোগ উঠেছে চরমে। অধিকাংশ হোটেল বন্ধ থাকায় খাবার কিনে খেতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই।রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদুৎ সংযোগ। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষজন সহসাই পাচ্ছে না যাতায়াতের বাহন। মিললেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

এদিকে জেলার তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদী বিধৌত নিম্নাঞ্চলে আবারও দেখা দিয়েছে বন্যা। তিস্তার ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।রংপুর জেলার সব উপজেলায় গ্রামের নিভৃত পল্লীর আবাদি ফসলের বিপাকে নষ্ট। তলিয়ে গিয়েছে আবাদি ফসলগুলো,কিন্তু গ্রাম অঞ্চল গুলোতে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় মাছে ধরার সমাহার বেড়ে চলছে ,জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছে মাছ ধরায়। অনেকেই ছোট জাল ,চটকা জাল,তেউরা জাল,নেগরি জাল,কারেন্ট জাল বিভিন্ন  গ্রামীণ অঞ্চলের এমন নাম জালগুলো দিয়ে    মাছ ধরতেছেন ছোট বড় সকলের।এরকম বন্যার পানিতে নতুন নতুন মাছের আগমনে দেখা যাচ্ছে বাড়ির গৃহস্থ থেকে শুরু করে সকলেই মাছ ধরার ব্যস্ত সময় পার করছে এরকম বন্যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি গুলো বিভিন্ন আবাদি জমি গুলো।

রংপুর নগরীর দিনমজুর থেকে শুরু করে যারা দিন আনে দিন খায় খেটে খাওয়া মানুষগুলোর চরম দুর্দশায় ভুগছেন। রিকশাচালক রিকশা চালাতে পারছেন না, বাদাম বিক্রেতা বাদাম বিক্রি করতে পারছেন না,একজন কৃষক মাঠে গিয়ে কৃষি কাজ করতে পারতেছেন না এরকম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চরম দূর্ভোগে আছেন। দিশেহারা হয়েছেন নদীর পাড়ের মানুষ গুলো। পানিবন্দি মানুষেরা জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তায় এবং তাদের পাশে চান চরম ক্রান্তিকালে।


সর্বশেষ

জনপ্রিয় খবর