নোয়াখালির বেগমগঞ্জ মধ্যযুগীয় কায়দায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ

প্রকাশিত: ১০:০৬ এ এম , ০৫ অক্টোবর ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আজ রাতে গ্রেফতার হওয়া দুজনের একজন হলো প্রধান আসামি বাদল ও অপরজন হলো দেলোয়ার। রোববার দিনগত রাতে  বাদলকে ঢাকা ও দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে র‌্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ ভোররাতে তাদের দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যরা পলাতক। তাদেরও খোঁজা হচ্ছে।  

ঘটনার ৩৩ দিন পর নয়জনকে আসামি করে রোববার (৫ অক্টোবর) দিনগত রাতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫) বাদী হয়ে মামলা করেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন উর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের ৫টি ইউনিট ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা জানান, আমরা নিরীহ লোক। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোনো কথা বলার সাহস পাই না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে বিচার চাই।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এবং নির্যাতিতা পরিবারকে আইনি সহযোগিতা দিতে জেলা পুলিশের ৫টি ইউনিট মাঠে কাজ করছে।


সর্বশেষ

জনপ্রিয় খবর