স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী: এখনো মনের কলুষিত স্বার্থ'কে স্বাধীন করা যায়নি

প্রকাশিত: ১১:৪১ পি এম , ২৭ মার্চ ২০২১

সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী'র শুভেচ্ছান্তে বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে ৫০ তম স্বাধীনতার পূর্তিতে "স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২০২১ ইং-" উদযাপন করছে বাংলাদেশ।
তেইশ বছরের করুণ ইতিহাস বিশ্লেষণে বাঙালিদের একতাবদ্ধ করে ন্যায্য অধিকারের দাবি আদায়ের স্লোগানে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু লক্ষ্য লক্ষ্য বীর বাঙালির সামনে মুক্তির মূলমন্ত্র পাঠ করেছিলেন। 
স্বাধীনতার মহাকাব্যের সেই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বীর বাঙালিরা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

২৫ মার্চ (২০২১ ইং-) বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের সামনে মোঃ আহাদ আলীর চা-দোকানে "মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী" উদযাপন বিষয়ে কথা বলছিলেন উপজেলা রাঘবিন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাদীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন (৬৫) আর সামনে বসে শুনছেন এবং মাঝে মাঝে অন্যকে বুঝিয়ে বিষয় ভিত্তিক কথোপকথন করছেন উপজেলার গরীবপাড়া গ্রামের মৃত উনেন উদ্দিন এর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাতাজ উদ্দিন (৬৬)।

একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক নামক ঐতিহাসিক ভাষণের উপর উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব এড়াতে পারেননি একসঙ্গে অংশগ্রহণ করা সেসময়কার কিশোর এই দুই তরুণ বন্ধু। ২৫ মার্চ কালো রাত্রে যখন অমানবিক-অমানুষিক অত্যাচার এবং বিভিন্ন ভাবে নির্যাতণের স্বীকার বাংলার মানুষ! এমনই জাতির ক্রান্তিলগ্নে ২৫ মার্চ পরবর্তী কিছু দিনের মধ্যেই কমান্ডার কর্ণেল বাসার এর নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁ ৬ নং সেক্টরে বাবা-মা, পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে মৃত্যুকে সঙ্গী করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন দুই বন্ধু মোহাম্মদ হোসেন ও মহাতাজ উদ্দিন।

তাঁরা স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছর পূর্তিতে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী'র অনুভূতির কথা জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদ্বয় "দিনাজপুর টিভি'কে" জানান 'স্বাধীনতার আদলে আমরা বিজয় লাভ করি- দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে কখনো ভাবিনি রাষ্ট্রীয় ভাবে আজ আমরা বাংলাদেশে এতো সন্মানিত হবো,। 'স্বাধীন হয়েছি, আমরা সম্বলিত ভাবে স্বাধীন করেছি কিন্তু এখনো মনের কলুষিত স্বার্থ'কে পুরোপুরি স্বাধীন করতে পারিনি', বলছিলেন অশ্রুসিক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন। বন্ধু মহাতাজ উদ্দিন কে লক্ষ্য করে আবেগতাড়িতভাবে তিনি আরও বলেন ' কখনো ভাবিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে বাবা-মা, পরিবার পাবো, পেয়েছি, তবে অনেক মুমূর্ষু ভাবে -! কতদিন, কত অভাবে-অনাটনে-অনাহার থেকে নিখোঁজ ছেলের দুঃচিন্তায়.... বলতেই কেঁদে ফেললেন এবং অন্যমনস্ক হয়ে বাকরুদ্ধ হলেন। 'আমরা অবশ্য যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে বাবা-মা'কে পেয়েছি কিন্তু কতো মুক্তিযুদ্ধা বন্ধু, ফিরে এসে কিছুই পায়নি!, বলছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদ্বয়'।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা এখন স্বাধীনতা খুঁজে পাই চলতি পথের নানান রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে। তাই মুক্তির তেজঃক্রিয়তায় জন্ম নেওয়া স্বাধীনতা, "স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী" পরবর্তী দিনে হউক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দিকনির্দেশিকা।


সর্বশেষ

জনপ্রিয় খবর