সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বর্ণের গহনা ও নগদ অর্থের ভিডিও পোস্ট করার কয়েক দিনের মাথায় ভারতীয় এক অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারের বাসা থেকে প্রায় এক কোটি রুপি মূল্যের সম্পদ চুরি হয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কন্যাকুমারী জেলার নাগেরকোয়েলের কাছে থামাথুকোনম এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ইনফ্লুয়েন্সার মধুমিতা ও তার স্বামী বিনোদ কুমার নিজেদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত সম্পদের দৃশ্য প্রচারের কারণেই এমন চুরির শিকার হতে হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সতর্কতা না মানায় এমন পরিণতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিবারের তিন সদস্যই একযোগে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হয়েছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর রাতে বাসায় ফিরে তারা শোয়ার ঘরের আলমারি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে রাখা স্বর্ণের গয়না ও নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র উধাও হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রাজাক্কামঙ্গলম থানায় বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, দুষ্কৃতীরা বসতঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। দরজার শক্ত তালা কাটার জন্য তারা কোনো কাটিং মেশিনের মতো ধারালো ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে। এরপর শোয়ার ঘরের আলমারি ভেঙে সব মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, খোয়া যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯৬০ গ্রাম ওজনের সোনার গহনা, বেশ কিছু হীরার অলঙ্কার এবং নগদ ৫০ হাজার রুপি। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া সম্পদের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভুক্তভোগী নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত প্রোফাইল নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একাধিক সংক্ষিপ্ত ভিডিও ও বার্তা। কোনো কোনো ক্লিপে তাকে ঘরের ভেতর বিপুল পরিমাণ সোনার গহনা পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। আবার অন্য কিছু দৃশ্যে বিছানার ওপর থরে থরে সাজানো নগদ নোটের বান্ডিল প্রদর্শিত হয়েছে। এমনকি একটি রেকর্ডে নিজের সন্তানের ওপর টাকার নোট ছিটিয়ে দেওয়ার দৃশ্যও উন্মুক্ত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ঠিক কোন দোকান থেকে এসব গয়না কিনতেন সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যও প্রকাশ্য পোস্টে উল্লেখ করা হতো। পরিবারের প্রকাশ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে বাসা ফাঁকা থাকা এবং চুরির সঠিক সময়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পরিবারটি ঠিক কখন ঘরের বাইরে ছিল, সেই তথ্য অনলাইন প্রোফাইল অনুসরণ করে অপরাধীরা জেনে নিয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন