"দিনাজপুর" এর খুঁটিনাটি

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পি এম , ০৫ জুলাই ২০২১

সবুজে ঘেরা আমাদের এই অপূর্ব দিনাজপুর জেলা।দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের উপজেলার সংখ্যানুসারে 'এ' শ্রেণীভুক্ত জেলা।চাল-লিচুতে ভরপুর এই জেলা আর সে কারনেই দিনাজপুর জেলার শ্লোগান হচ্ছে : চালে-লিচুতে ভরপুর জেলার নাম দিনাজপুর। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে বৃহত্তম এই জেলা।দিনাজপুর অঞ্চল আদি জুরাসিক যুগে সৃষ্টি হওয়া গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ ছিলো।স্থানাঙ্ক ২৫ ডিগ্রি,৩৭'৪৮" উত্তর এবং ৮৮ ডিগ্রী ৩৯'০" পূর্ব।সমুদ্র সমতল থেকে শহরের গড় উচ্চতা ৪৮ মিটার।

জনশ্রুতি আছে যে,১৭৮৬ সালে জনৈক দিনাজ বা দিনারাজ দিনাজপুরের রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা।তার নামানুসারেই রাজবাড়ীতে (রাজবাটী) অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর।পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার রাজার সম্মানে এই জেলার নামকরন করেন "দিনাজপুর"।

দিনাজপুর জেলার আয়তন ৩,৪৪৪.৩০ বর্গ কিলো-মিটার।১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জেলায় রয়েছে ১৩ টি উপজেলা,০৮ টি পৌরসভা ও ১৬৩ টি ইউনিয়ন এবং ২১৪২ টি গ্রাম। এর মধ্যে আয়তনে বৃহৎ উপজেলা বীরগঞ্জ (১২.৩১%) এবং সবচেয়ে ছোট ঘোড়াঘাট উপজেলা।

লিচু ও চালের জন্য শুধু বিখ্যাত
দিনাজপুর জেলা এটা একদম ভুল ধারণা,দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় রয়েছে দেশের বৃহত্তম প্রাচীন মন্দির কান্তজীউ/কান্তনগর।প্রতিবছর শুধু বাংলাদেশ নয় দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশের মানুষ এই মন্দির দর্শনে আসেন প্রতিবছর।
এছাড়াও দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রাজবাড়ী (রাজবাটী),নয়াবাদ মসজিদ,সুরা মসজিদ,রাম সাগর,সুখ সাগর,মাতা সাগর, আনন্দ সাগর, চেহেলগাজী মাজার,সিংড়া জাতীয় উদ্যান,আশুলিয়ার বিল,কাঞ্চন ব্রিজ,বীরগঞ্জ স্লুইসগেট ইত্যাদি রয়েছে।স্থানগুলোতে নিয়মিত দর্শনার্থী বৃদ্ধি পাচ্ছে যা দিনাজপুরের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।দিনাজপুর রয়েছে প্রাচীন জাদুঘর যা দিনাজপুর জাদুঘর নামে প্রচলিত।যা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহশালা।

শিক্ষাক্ষেত্রে জেলার গড় শিক্ষার হার ৪৫.৭ শতাংশ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী।চালু আছে 'আলোর দিশারী' নামক সাক্ষরতার আন্দোলন।
দিনাজপুরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।যা উত্তরের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবেই পরিচিত।এছাড়াও দিনাজপুর সরকারি কলেজ,এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ,দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ,হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ,ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ,পার্বতীপুর ইত্যাদি শিক্ষার হারে জেলা শীর্ষে অবস্থান করছে।

দিনাজপুরের মাটিতে কমবেশি সকল ফসলের চাষবাস ও ফলন ভালো হয়।বিশেষ করে,ধান,পাট,গম,ভুট্টা,বাদাম,আলু ও নানা ধরণের সবজিরও চাষ হয়।বর্তমান সময়ে বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ী নামক এলাকাতে চা-পাতা চাষ শুরু হয়েছে।যা পরবর্তীতে বিস্তৃতি লাভ করবে বলে আশা করে স্থানীয়রা।এছাড়াও খানসামা উপজেলাতেও চা-পাতা চাষ হচ্ছে।

দিনাজপুর ক্রিড়াঙ্গনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে চলছে।শহরে রয়েছে "দিনাজপুর স্টেডিয়াম'' নামে একটি স্টেডিয়াম,এছাড়াও রয়েছে সামাজিক ও সহঃশিক্ষামূলক ৫০টিরও বেশি সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

দিনাজপুর সদরে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান যা গোর-এ শহীদ বড় ময়দান বা দিনাজপুর ঈদগাহ মাঠ নামে প্রচলিত।

দিনাজপুর জেলার জন্মসূত্রে বা পিতৃক সূত্রে বিখ্যাত ব্যক্তিগণ হলেন: হাজী মোহাম্মদ দানেশ,প্রেমহরি বর্মন,অধ্যাপক ইউসুফ আলী,বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আব্দুর রহিম,সুভাষ দত্ত,আব্দুল বারী,এটিএম আফজাল,চেহেল গাজী,নিতন কুন্ডু,খুরশীদ জাহান,শহিদ ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান,খালেদা জিয়া,আবুল হাসান মাহমুদ আলী প্রমুখ।
এছাড়াও দিনাজপুরের কৃতি সন্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় লিটন দাস।

নদীমাতৃক এই দেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৪৮ মিটার উঁচুতে অবস্থান করলেও এই জেলায় রয়েছে ২৬ টি নদী।যা দিনাজপুরের মানুষের জন্য গর্বের। দিনাজপুরের মানুষ অত্যন্ত শান্ত ও অতিথি পরায়ন।


সর্বশেষ

জনপ্রিয় খবর